কৃষকদের উপর কোন রকম অন্যায় করে কেউ ছাড় পাবে না- কুমিল্লায় কৃষিমন্ত্রী।
জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, কুমিল্লা

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন বলেছেন, দেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে অতীতের বিভিন্ন কৃষিবান্ধব উদ্যোগ আজও ইতিবাচক প্রভাব রাখছে। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় কৃষি ঋণমুক্তকরণ, সারের ভর্তুকি প্রদানসহ কৃষকদের জন্য নানা সহায়ক নীতি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যা কৃষি খাতকে শক্তিশালী ভিত্তি দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে”—এই দর্শন থেকেই সেই সময়কার নীতিনির্ধারণ করা হয়েছিল।
মন্ত্রী বলেছেন- কৃষকদের উপর কোন রকম অন্যায় করে কেউ ছাড় পাবে না।
তিনি শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বিবিরবাজার হাই স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এসময় মন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একই কৃষিবান্ধব আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষকদের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। এর মধ্যে কৃষি ঋণমুক্তকরণ কার্যক্রম জোরদার করা এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর মতো উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য। নির্বাচনী ইশতেহারের ৩১ দফা প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। কৃষকদের স্বাবলম্বী করে তোলা গেলে দারিদ্র্য হ্রাস পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ, যেখানে সারা বছরই বিভিন্ন ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। তাই কৃষিখাতকে আধুনিক ও লাভজনক করতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক ভিত আরও মজবুত হবে। সরকার সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে এবং কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানো, ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সরবরাহ এবং উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে কৃষকরা সহজেই ভর্তুকি, প্রণোদনা ও বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন, যা তাদের উৎপাদন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করছে।
কৃষি কার্ড সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন- এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকগন সেচের সুবিধা পাবেন। সেচপাম্পগুলোকে সোলার সিস্টেম করা হবে। যাতে দেশের উৎপাৎদিত বিদ্যুতের উপর নির্ভর করতে না হয় এবং এই সোলার সিস্টেমেও সরকার ভর্তুকি দেবে। কৃষিকাজের জন্যে সোলার সিস্টেম অগ্রধিকার ভিত্তিতে পাবেন।
সারাদেশে ডিজিটাল কৃষি সেবাকে আরও বেগবান করতে আজ কুমিল্লায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের মাঝে কার্ড বিতরণ করবেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর-রশীদ ইয়াছিন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, কুমিল্লা সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া এবং আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরাসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জীবনমান বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করতে কুমিল্লায় ১হাজার৪৫৮জনকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরি হবে, যার ফলে সহজেই সরকারি সহায়তা,ভর্তুকি ও বিভিন্ন কৃষিসেবা প্রদান করা সম্ভব হবে বলেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষক কার্ড পেয়ে স্থানীয় কৃষকরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যসবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন এবং কৃষি বিভাগের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, জীবনমান বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় মোট ১,৪৫৮ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সারাদেশে এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ কুমিল্লার প্রান্তিক কৃষকদের এই বিশেষ ডাটাবেজ কার্ডের আওতায় আনা হয়।। এর মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি প্রণোদনা, ঋণ সুবিধা এবং ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ পাবেন।