দেবিদ্বারে বৈষম্যবিরোধীর লোক দাবি করে কলেজে হামলা

কুমিল্লা প্রতিনিধি :

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নাম ব্যবহার করে কুমিল্লার দেবিদ্বারের দি রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে মব সৃষ্টি করে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, কলেজটির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ সরকারকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে দীর্ঘদিন কলেজের বাইরে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে তিনি প্রায় ১০-১২ দিন আগে কলেজে ফিরে আসেন।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় তোফায়েলকে মব সৃষ্টি করে কলেজ থেকে বের করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে অন্তত ৫০ জন বহিরাগত কলেজে প্রবেশ করে। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে এলাকাবাসী ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিহত করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

কলেজ সূত্র জানায়, কলেজের সাবেক সভাপতি শরিফুল আমিন, কমিটির সদস্য আবু সেলিম ভূঁইয়া, নাজমুল হাসান সরকার এবং জামায়াতে নেতা রুহুল আমিন খান, খন্ডকালীন শিক্ষক আব্দুল হালিমসহ আরো কয়েকজন কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ সরকারকে কলেজ থেকে বের করে দিতে মব সৃষ্টি করার চেষ্টা করেন। তবে বিষয়টি এলাকাবাসী প্রতিহত করে। কুমিল্লা উত্তর জেলায় এই কলেজটি একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের কর্মকাণ্ডের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম ও হাফসা আক্তার বলেন, ‘ভালো কলেজ জেনেই এখানে পড়াশোনা করতে এসেছি। কিন্তু এখন শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে আমাদের পড়ালেখা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। অধ্যক্ষ তোফায়েল স্যার যখন কলেজে প্রথম অধ্যক্ষ ছিল তখন অনেক সুনাম ছিল। আমরা তোফায়েল স্যারকেই কলেজে চাই।’

স্থানীয় কবির সরকার ও লিমন মিয়া বলেন, ‘এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কেউ যদি ভুল করে, বিষয়টি প্রশাসন দেখবে। এখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লোকজনের প্রয়োজন কি? তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারে, পুলিশই বিষয়টি দেখবে। অধ্যক্ষ তোফায়েল যদি স্বৈরাচারের দোসর হয়ে থাকে সেটিও প্রশাসনই দেখবে। এখানে বহিরাগতদের উপস্থিতি গুন্ডামি ছাড়া অন্য কিছু কি?’

দি রয়্যাল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ সরকার বলেন, ‘তারা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কলেজে হামলা চালিয়েছে। এতে আমার শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আমি কলেজে ফিরেছি। এটি আমার প্রতিষ্ঠিত কলেজ। আমি কেন এখান থেকে বের হব? যারা এসব কাজ করছে, তারা কলেজটিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের কলেজে আবার সুনাম ফিরে আসবে, ইনশাআল্লাহ।’

দেবিদ্বার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। সেখানে গিয়ে আমরা কিছুই পাইনি। তবে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে শুনেছি। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।

আরো দেখুনঃ