বাগমারায় কৃষি জমিতে পুকুর খননের দায়ে একজনের কারাদন্ড
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়নের রামরামা গ্রামে তিন ফসলি কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খননের দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতে আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় বাগমারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ভূঞা এই রায় দেন। এছাড়া পুকুর খনন কাজে নিয়োজিত একটি এক্সেভেটর (ভেকু) ভেঙ্গে অকেজো করে দিয়ে অবৈধ পুকুর খনন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বাগমারায় পুকুর খনন চক্রের মুল হোতা আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে আমীর আলী, পারভেজ আলী, জিল্লুর রহমান ও মুনছুর রহমান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে রামরামা গ্রামের জলপাইতলা মোড়ের পাশে তিন ফসলি কৃষি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন শুরু করেন।
প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে ভোর রাত পর্যন্ত পুকুর খননের নামে ট্রাক্টরযোগে এলাকার বিভিন্ন ইটভাটায় জমির টপসয়েল বিক্রয় করা হচ্ছিল। এতে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি ট্রাক্টরযোগে বিভিন্ন ইটভাটায় মাটি সরবরাহ করায় এলাকার পাকা রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এ কারণে এলাকার কৃষকরা বাধা দিলেও তাদের পাত্তা না দিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে রামরামা গ্রামে অবৈধভাবে পুকুর খনন কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন। এর আরগেও জলপাইতলা মোড়ের পাশে আমীর আলীর অবৈধভাবে পুকুর খনন কাজে নিয়োজিত দুইটি এক্সেভেটর (ভেকু) ভেঙ্গে অকেজো করে দিয়ে ভেকুর ব্যাটারি খুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেন, মিডিয়া কর্মীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে পুকুর খননের দায়ে আমিনুল ইসলাম নামে এক দুষ্কৃতকারীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতে সে দোষ স্বীকার করায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
সেই সাথে সংশ্লিষ্ট সরকারি কোনো দপ্তরের অনুমোতি না থাকায় ওই অবৈধ পুকুর খনন কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন থেকে অবৈধ পুকুর খননের বিরুদ্ধে রাতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।