বাগমারায় শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থী শান্তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার
বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

বাগমারার হাট গাঙ্গোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষকদের গাফিলতির কারণে শান্তা ইসলাম মৌ নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গেলো। এই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ওই শিক্ষার্থীর বাবা শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বাঁইগাছা গ্রামের সামিউল ইসলাম রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোছা: শান্তা ইসলাম মৌ বাঁইগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০২৩ শিক্ষাবর্ষের ২০২৫ সালের একজন অনিয়মিত এসএসসি পরিক্ষার্থী। তার রোল নং- ৭৫১১৯৭, রেজি: নং- ২২১২৬০৮৩৭৭, কেন্দ্র হাটগাঙ্গোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়।
গত ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় সে অংশ গ্রহণ করে। কিন্তু শান্তা ইসলাম মৌ ২০২৫ সালের একজন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হওয়া সত্বেও তাকে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।
এ সময় সে সংশ্লিষ্ট কক্ষ পরিদর্শকে তার এডমিট কার্ড দেখিয়ে সে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র চাইলেও তাকে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে তাৎক্ষনিকভাবে কেন্দ্র সচিবকে অবহিত করা হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এরপর গত ২৩ এপ্রিল শান্তা ইসলাম মৌ তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ দেয়। এর প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা তাৎক্ষনিকভাবে হাট গাঙ্গোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তলব করেন।
কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কেন্দ্র সচিবসহ অভিযুক্ত শিক্ষকরা উপস্থিত হওয়ার পর রহস্যজনক কারণে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো পরীক্ষার ফলাফলে অকৃতকার্য হলেও এ বিষয়ে কোন আপত্তি বা অভিযোগ করবো না মর্মে ওই পরীক্ষার্থীর কাছে থেকে অঙ্গীকারনামা লিখে নেওয়া হয়।
ওই অঙ্গীকারনামায় অভিভাবক হিসেবে তার বাবারও স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্র সচিবসহ অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য হাট গাঙ্গোপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব গোলাম মোস্তফার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে বাগমারা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইফুল ইসলাম ভূঞা বলেছেন, এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রের আলোকে ওই পরীক্ষার্থী বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা দিলেও পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নে তার কোন সমস্যা হবে না। কাজেই এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।