১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ: লাখো মানুষের ঢল
মাহমুদুর রহমান(তুরান) ভাঙ্গা,(ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ

দীর্ঘ ১৫ বছর পর ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রমত্তা কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে এই উৎসবমুখর প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ফরিদপুর-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব শহিদুল ইসলাম বাবুলের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এই নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে পুরো উপজেলাজুড়ে এক অভূতপূর্ব উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আবহমান বাংলার এই প্রাচীন লোকজ সংস্কৃতি ও উৎসব দেখতে কুমার নদের দুই পাড়ে ভিড় জমিয়েছেন ফরিদপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার লাখো মানুষ।
এই জমকালো আয়োজনে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এ্যাড: সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব এ.কে.এম কিবরিয়া স্বপন, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ-সম্পাদক আইয়ুব আলী মোল্যা।
প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান মোঃ সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী।
প্রতিযোগিতায় ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সুসজ্জিত ও বাহারি নামের ২৫টি বাইচের নৌকা অংশ নেয়। কাঁসা, ঢোল আর হর্ষধ্বনির তালে তালে মাঝিমাল্লাদের বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো কুমার নদ। নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা করতালি ও স্লোগানে নিজ নিজ পছন্দের নৌকাকে উৎসাহ যোগান। নিরাপত্তার স্বার্থে নদী ও তীরবর্তী এলাকায় পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দল মোতায়েন ছিল।
সভাপতির বক্তব্যে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, “নৌকাবাইচ শুধু একটি খেলাই নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির প্রাণ। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই ঐতিহ্যকে কুমার নদে ফিরিয়ে আনতে পেরে আমরা আনন্দিত। এই উৎসব আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।”
প্রতিযোগিতা শেষে সন্ধ্যায় বিজয়ী দলগুলোর মাঝে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে আকর্ষণীয় ট্রফি ও প্রাইজমানি তুলে দেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ। হারিয়ে যাওয়া এই লোকজ ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে এখন থেকে প্রতি বছর কুমার নদে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।