সোনাগাজীতে চাচার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ফেসবুকে লাইভে এসে চাচার মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ যুবদলকর্মীর

জাবেদ হোসাইন মামুন, সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীতে স্কুল শিক্ষক চাচার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ফেসবুকে লাইভে এসে চাচার মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করেছেন নুর আলম শামীম নামে এক যুবদলকর্মী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর বাদামতলী এলাকায় রোববার এমন সকালে এমন ঘটনা ঘটে। শামীম নিজের ফেসবুক samim akram নামে প্রকাশ্যে লাইভে এসে, বিএনপি, জামায়াত ও আ.লীগ নেতাকর্মীদের গালাগালি করে বলতে থাকেন, মা…পোলারা তোদের কাছে বিচার না পেয়ে নিজের ঘরে নিজে আগুন লাগাই দিছি। কেউ আগুন নিভাতে আসবিনা। যে আসবি তাকে গুলি করে দিবো। তোরা সবাই আ.লীগ ও জামায়াতের দোসর। আজকে থেকে আমি আ.লীগ করবো। তোরা জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলাইছস। ১৭ টি বছর নিজের টাকা খরচ হরে মিছিল মিটিং করেছি। তোদের কাছে জামায়াত নেতার কারণে কোন বিচার পাইনি। তোরা জামায়াতের সঙ্গে হাত মেলানোর কারণে আমি ন্যায় বিচার পাইনি। আজকে থেকে আ,লীগ করমু। আমার ঘরে আমি আগুন লাগাইছি। এমন অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকে শামীম।

অন্যদিকে প্রতিবেশী ও বাড়ির লোকজনের সামন নিজ ঘরে রাখা চাচার মোটরসাইকেলে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। তার ভয়ে কিউ আগুন নিভাতেও এগিয়ে যাচ্ছেনা। এক পর্যায়ে এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশ ও ফায়ারস সার্ভিসের লোকজন নিয়ে মোটরসাইকেলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। যার ফলে তার বসতঘরটি আগুন থেকে রক্ষা পায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল কর্মী নুর আলম শামীম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার চাচা আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড জামায়াতের আমির এবং একই ইউনিয়নের চরকৃষ্ণজয় সরকারি আদর্শগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক।

তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের মালিকীয় জমি জবরদখল করে রেখেছেন। এলাকবাসী, সমাজপতি ও রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে জমির বিরোধ মীমাংসার নামে সময় ক্ষ্যাপন করতে থাকে। এক পর্যায়ে স্থানীয় কিছু যুবদল নেতাকর্মীর উপজেলা যুবদলের শীর্ষ এক নেতার কাছে তার বিরুদ্ধে নালিশ করান তার চাচা সিরাজুল হক। ওই নেতা তাকে ডেকে নিয়ে গালমন্দ করে এসব বিরোথ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। দলের জন্য তার শ্রম ত্যাগের কথা মনে আসার পর ওই নেতার কথা না শুনে চাচার দোকানের সামনে থেকে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিজ ঘরে নিয়ে যান শামীম। এ দিকে চাচার সঙ্গে তার উত্তেজনার খবর পেয়ে তার বয়োবৃদ্ধ পিতা স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার দাবি সে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। চাচা জামায়াত নেতা হওয়ায় দলের পক্ষ থেকেও কোন সহযোগিতা পাননি।

একদিকে চাচার অত্যাচার অন্যদিকে দলের অসহযোগিতা এই দিকে রোববার সকালে তার পিতা স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বুক ভরা কষ্ট থেকে সে এমন কান্ড ঘটিয়েছে। যে জমির জন্য আমার বাবা দুনিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছে, সেই জমি আর ঘর দিয়ে কি করবো? তার চাচা মাস্টার সিরাজুল হক জমি নিয়ে বিরোধের কথা এড়িয়ে বলেন, নুর আলম শামীম ও তার সহযোগীরা গত কয়েকদিন যাবৎ কিছু টাকা দাবি করে আসছে।

দাবিকৃত টাকা না পেয়ে তার মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে।উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূঞা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও আমি দেখেছি।

এর আগে বিষয়টি আমরা জানতাম না। শামীম কাজটি ঠিক করেনি। তার চাচা অন্যয় করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারতো। ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। তাদের চাচা-ভাতিজার জমির বিরোধে দলের কোন হস্তক্ষেপ নেই।

আরো দেখুনঃ