ত্রিশালে হাঁস মরাকে কেন্দ্র করে এয়ারটেল টাওয়ার কর্মীকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার

ময়মনসিংহের ত্রিশালে হাঁস মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে হুমায়ুন কবীর (৫০) নামে এক এয়ারটেল টাওয়ার কর্মীকে কাঠের শাড়ক দিয়ে পিটিয়ে ও দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ত্রিশাল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দরিরামপুর এলাকায় এয়ারটেল টাওয়ারের সামনে সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ত্রিশাল থানায় লিখিত অভিযোগ করলে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বৃহস্পতিবার দুপুরে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের কয়েকজনের বাড়ির পাশেই এয়ারটেল টাওয়ারে চাকরি করেন হুমায়ুন কবীর। সম্প্রতি অভিযুক্তদের কয়েকটি হাঁস মারা অবস্থায় টাওয়ারের পাশে পড়ে ছিল। এ ঘটনায় হুমায়ুনকে দায়ী করে অভিযুক্তরা তাঁর সঙ্গে বিরোধে জড়ান এবং বুধবার সন্ধ্যার দিকে ত্রিশাল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দরিরামপুর এলাকায় এয়ারটেল টাওয়ারের সামনে সড়কে হুমায়ুন কবীরের পথরোধ করেন অভিযুক্তরা। একপর্যায়ে রমজান আলী বেপারীর নির্দেশে মিন্টু মিয়া দা দিয়ে হুমায়ুনের মাথার বাঁ পাশে কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর কাটা-রক্তাক্ত জখম হয়ে সড়কে পড়ে যান।
পরে হামিদুল, এমদাদুল ও হেলাল উদ্দিন কাঠের শাড়ক দিয়ে তাঁর মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় রমজান আলী বেপারী তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেছেন, ওই সময় হুমায়ুনের শার্টের পকেটে থাকা ৮৫ হাজার ৭০০ টাকা নিয়ে যান রমজান আলী বেপারী। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা চলে যান। যাওয়ার সময় তাঁরা ছালমা খাতুন, তাঁর স্বামী ও সন্তানকে সুযোগ পেলে হত্যা ও গুম করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত হুমায়ুন কবীরকে ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় চিকিৎসক তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
এ ঘটনায় আহতের স্ত্রী ছালমা খাতুন শিল্পী বাদী হয়ে মিন্টু মিয়া (৪৫), হামিদুল (৩৫), এমদাদুল (৪০), রমজান আলী বেপারী (৬৫), তাকিয়া আক্তার (৩২) ও হেলাল উদ্দিন (৪৫) কে আসামি করে ত্রিশাল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হামিদুল ও এমদাদুল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ছালমা খাতুনের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্তদের হুমকির কারণে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মনসুর আহম্মদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত হামিদুল ও এমদাদুল নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।