প্রশাসনের হস্তক্ষেপে উদ্ধার নীলফামারী ভূমি অফিসের দখলকৃত জমি
নীলফামারী প্রতিনিধি।।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুই প্রভাবশালী নাজিরের সিন্ডিকেট ভেঙে অবশেষে উদ্ধার হলো সদর উপজেলা ভূমি অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত মূল্যবান জমি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাইরুজ্জামানের কঠোর নির্দেশনায় ১০ এপ্রিল বিকেলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে জায়গাটি কাঁটাতারের বেষ্টনীতে ঘিরে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, নীলফামারী টাউন মৌজার ৩৪৯ নম্বর দাগের এই জমিটি মূলত উপজেলা ভূমি অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুই প্রভাবশালী নাজির, এসএ শাখার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও নেজারত শাখার মোঃ মমিন, নিজেদের পদের অপব্যবহার করে, সরকারী ভিপি কেস নাম্বার পরিবর্তন করে এই সরকারি সম্পত্তি গ্রাস করার ষড়যন্ত্র করেন। তারা নথিপত্র জালিয়াতি করে গত ২৪ মার্চ তাদের স্ত্রীদের (মোছাঃ রুমা বেগম ও মোছাঃ ইসরাত জাহান মিম) নামে নীলফামারীর প্রাণকেন্দ্র চৌরঙ্গীর মোড়ের ১৫ শতক জমিটি ইজারা লিখিয়ে নেন।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জালিয়াতি ধরা পড়লে তড়িঘড়ি করে ইজারা বাতিল করা হলেও নথিতে ভিন্ন ভিন্ন ‘ভুতুড়ে’ কেস নম্বর ব্যবহার করে জালিয়াতি ঢাকার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই নাজির সিন্ডিকেট ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভুক্তভোগী জি এম জাহাঙ্গীর আলমের ভোগদখলীয় বসতবাড়ির তালা ভেঙে দখলের ধৃষ্টতাও দেখিয়েছিল। নথিপত্রে করা হয়েছে নজিরবিহীন জালিয়াতি জমিটির ইজারা আদেশে (স্মারক নং- ৫৫) ভিপি কেস নম্বর উল্লেখ করা হয় ৪৪/১-৬৮-৬৯, অথচ জনরোষের মুখে ওই দিনই যখন ইজারা বাতিলের আদেশ জারি করেন রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর সুমনা পারভীন মিতু, তখন সেখানে কেস নম্বর দেখানো হয় ভিপি-৪/৭৮ (নীল:)। একই জমির ক্ষেত্রে একদিনের ব্যবধানে দুটি ভিন্ন কেস নম্বর ব্যবহারকে প্রশাসনের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা অসাধু চক্রের নজিরবিহীন জালিয়াতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২০ সালেই তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) উক্ত জমিতে ভূমি অফিস নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালে এসি ল্যান্ড ইমরুল আবেদীনের স্বাক্ষরিত পত্রে উপজেলা প্রকৌশলী বরাবর ভবন নির্মাণের ‘ডিপিপি’ ছকও প্রেরণ করা হয়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রজেক্টের জায়গা তথ্য গোপন করে লিজ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
আজকের উচ্ছেদ অভিযান প্রসঙ্গে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ জানান,জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জায়গাটিতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কেউ জালিয়াতির মাধ্যমে এটি দখলের সাহস না পায়। পরবর্তীতে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হবে।
ভুক্তভোগী জি এম জাহাঙ্গীর আলম জানান, ”আমার বৈধ লিজ থাকা সত্ত্বেও জালিয়াতির মাধ্যমে আমার ঘর দখল করা হয়েছিল। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে আমি ন্যায়বিচার পেলাম।”
অভিযুক্ত নাজির মনিরুজ্জামান নিয়ম মেনে লিজ নেওয়ার দাবি করলেও আরেক নাজির মমিন পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সাইদুল ইসলাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় এবং সরকারি স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নাইরুজ্জামান জানান,জমিটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। খুব দ্রুত অবৈধ স্থাপনা গুলো ভেঙে ফেলা হবে।
এমএফ/অননিউজ