শেষ মুহুত্বে জমে উঠেছে নীলফামারীর ইটাখোলা ও কুন্দপুকুর ইউপি নির্বাচন

নীলফামারী প্রতিনিধি।।

১৯৪

শেষ মুহুত্বে জমে উঠেছে নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ও কুন্দপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। জেলা আওয়ামীলীগের দুই প্রভাবশালী নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বদ্বীতা করায় ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে এ নির্বাচন। নির্বাচনী শোরগোলে এখন মুখর দুই ইউনিয়নের সর্বত্রই। চলছে এলাকার হাটবাজারে নির্বাচনী আলাপ আলোচনা। কাকে দিয়ে কিভাবে কাকে নিজের পক্ষে আনা যায়, কোন মুরব্বীকে দিয়ে কোন এলাকার ভোটারদের কাছে টানা যায় এমন সব নির্বাচনী সমিকরণ নিয়ে চলছে প্রার্থী সমর্থকদের শেষ পর্যায়ের হিসেব নিকেশ।

৭ ফেব্রুয়ারী যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। মাও হামাক একটা ভোট দেন। হামরা তোমারে ছাওয়া। এরকম নানা আঞ্চলিক ভাষায় ভোটারদের আকৃষ্ট করার কাজে যুক্ত হয়েছেন নানা বয়সী মানুষ। দিন হাজিরা কিংবা চুক্তিতে চলছে প্রচারণার কাজ। নীলফামারী শহরের পাশাপাশি ৪টি ইউনিয়নের এ দুই ইউনিয়ন। স্থানীয় রাজনীতিসহ নানা কারনে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বসে নেই জেলা আওয়ামীলীগের নীতিনির্ধারকরা। দিনরাত এক করে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিচ্ছেন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও পৌর সভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদসহ প্রভাবশালী নেতারা। ইটাখোলা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হাফিজুর রশীদ মঞ্জুকে পরাজিত করতে মাঠে নেমেছেন সাবেক সফল জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক স্বতন্ত্র প্রার্থী হেদায়েত আলী শাহ ফকির। এ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৬জন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করলেও মূলত লড়াই হবে নৌকা প্রতিকের হাফিজুর রশীদ মঞ্জু ও হেদায়েত আলী শাহ ফকিরের আনারস মার্কা প্রতীকের মধ্যেই। একাধিক ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নাগরিক সনদ পত্র(জন্ম/মৃত্যু), বিচার শালিশের মাধ্যমে টাকা গ্রহন, বয়স্ক, বিধবা, মাতৃকালীন ভাতা প্রদানে অনিয়ম, ডাকবাংলো কবর স্থানের নামে একাধিক প্রকল্পে অস্বচ্ছতাসহ বিস্তর অভিযোগ ভোটারদের ভাবিয়ে তুলেছে।

হেদায়েত আলী শাহ ফকির অভিযোগ করে বলেন, নীলফামারী পৌরসভার সাথে সীমানা জটিলতায় ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দীর্ঘ ১২ বছর পর আগামী ৭ ফেব্রুয়ারী নির্বাচন কমিশোন ভোট গ্রহনের তফশিল ঘোষনা করে, এরপর একটি কুচক্রিমহল আমার গাবেরতল নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগ করে এবং চিনিরকুঠির বাজারে ভাড়ায় নেয়া একটি দোকান ঘরকে নির্বাচনী অফিস বানিয়ে ছিলাম। সেই দোকানের মালিককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অফিসটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। শুধু তাই নয় নিশ্চিত পরাজয় জেনে আমার কমীর্, সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি অব্যাহত রেখেছে। গত ২৭ জানুয়ারী সুষ্ঠু ও প্রভাব মুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য প্রতি ভোট কেন্দ্রে একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ চেয়ে আমিসহ অপর স্বতন্ত্র ৩জন চেয়ারম্যান, মহিলা সংরক্ষিত ও সাধারণ সদস্যসহ ১৭জন প্রার্থী মিলে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।

ইটাখোলা ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২২ হাজার ৩শত ৭২জন। সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ২৭ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৫২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছে।

ওদিকে কুন্দপুকুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জাপার প্রভাবশালী নেতা মটর সাইকেল প্রতীকের শাহাজাহান আলী চৌধুরীকে হারাতে মাঠে নেমেছেন নৌকা প্রতিকের প্রার্থী জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও চশমা প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফা। কুন্দপুকুর ইউনিয়নে ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৯শত ২২জন। চেয়ারম্যান পদে ৪জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১৬ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৫২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছে।

আরো দেখুনঃ
error: Content is protected !!