বাগমারায় এক বছর ধরে কলেজে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন তুলছেন সাজা প্রাপ্ত আসামি
বাগমারা, রাজশাহী প্রতিনিধি।।

বাগমারার নন্দনপুর টেকনিক্যাল ভোকেশনাল স্কুল এন্ড বিএম কলেজের ল্যাব সহকারি আইয়ুব আলী এক বছর ধরে কলেজে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একটি প্রতারনা ও চেক জালিয়াতি মামলায় আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদন্ড দিয়েছেন। এরপর থেকেই তিনি গ্রেফতারের ভয়ে আতœগোপন করে আছেন। অথচ এক বছর ধরে কলেজের হাজিরা খাতায় তার কোন স্বাক্ষর না থাকা সত্বেও তিনি নিয়মিতভাবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। এই ঘটনায় তার শাস্তি ও চাকরি থেকে বরখাস্তের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পৃথকভাবে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নন্দনপুর টেকনিক্যাল ভোকেশনাল স্কুল এন্ড বিএম কলেজের ল্যাব সহকারি আইয়ুব আলী বাসুপাড়া ইউনিয়নের নন্দনপুর গ্রামের আব্দুল মজিদকে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দিয়ে প্রতারনা করে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু পরবর্তীতে ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদকে বিদেশে না পাঠিয়ে ওই টাকা আতœসাৎ করেন। পরে এ নিয়ে সালিশি বৈঠকে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীর বাবা আইয়ুব আলীর নামে একটি চেক দেওয়া হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলে চেকটি ডিজঅনার হয়। এর জেরে প্রতারক আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর আদালতে ১৮৮১ সালের নেগোসিয়েবল ইন্সট্রমেন্ট এ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা করেন ভুক্তভোগীর বাবা আইয়ুব আলী। ওই মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহীর অতিরিক্ত আদালতের যুগ্ন দায়রা জজ শরিফুল ইসলাম গত বছরের ৬ জুন প্রতারক আইয়ুব আলীর বিরুদ্ধে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ডের রায় দেন। সেই সঙ্গে বাদিকে চেকে উল্লেখিত পরিমান টাকা পরিশোধেরও আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই প্রতারক আইয়ুব আলী কলেজে না এসে গ্রেফতারের ভয়ে আতœগোপন করে আছেন। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন কলেজে অনুপস্থিত থাকার পরও সাজা প্রাপ্ত আসামি আইয়ুব আলী কলেজ কর্তৃপক্ষকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে অবৈধভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে সরকারি অর্থ আতœসাৎ করছেন।
এদিকে অভিযুক্ত আইয়ুব আলী এক বছর ধরে কলেজে অনুপস্থিত থাকা এবং হাজিরা খাতায় তার কোন স্বাক্ষর না থাকার কথা স্বীকার করে কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান বলেন, তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটি নিয়ে আতœগোপন করে আছেন। তবে তার বেতন-ভাতা বন্ধের বিষয়ে এখনও কোন আদেশ তিনি পাননি। এ বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম আহম্মেদ বলেন, চলতি মাস থেকে তার বেতন-ভাতা বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমএফ/অননিউজ