ক্লুলেস অটোচালক হত্যা রহস্য উদ্ঘাটন: রিকশাসহ ২ খুনি গ্রেফতার।।
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগরে অটোরিকশাচালক মাহাবুব আলম মাসুমের (৩২) মরদেহ উদ্ধারের মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। একই সাথে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধারসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ টিলি গ্রামের মো. নাঈম ইসলাম (২৫) (বর্তমানে মুরাদনগরের নগরপাড় এলাকায় ভাড়াটিয়া) এবং বাঙ্গরা বাজার থানার হিরাপুর গ্রামের আরমান সরকার (২০)।
আজ রোববার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম জানান, গত ১৯ জুন বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন মাসুম। নিহতের পরিবার জানায়, দুজন যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাওয়ার কথা বলে তিনি বের হয়েছিলেন। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন ২০ জুন (শনিবার) দুপুরে বাঙ্গরা বাজার থানার টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ি গ্রামের দড়েরপাড় এলাকার একটি সড়কের পাশের ঝোপ থেকে তার চোখ-মাথা থেঁতলানো ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতপ্রাপ্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় নিহতের পিতা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে দ্রুত তদন্তে নামে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ।
তদন্তের একপর্যায়ে কোম্পানিগঞ্জ এলাকায় অটোরিকশা বিক্রির চেষ্টাকালে প্রথমে নাঈমকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে কোদালকাটা-মির্জাপুর এলাকা থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর সহযোগী আরমানকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই মাসুমকে শ্বাসরোধ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
প্রেস কনফারেন্সে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান-এর সাথে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) পংকজ বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।
সট: মো. আনিসুজ্জামান, পুলিশ সুপার, কুমিল্লা।